দেশের সোনালী আঁশ-পাট আজ বিলুপ্ত প্রায়

ইঞ্জি: ফয়সাল রিশাদ
বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় (৩৬তম ব্যাচ)

পাট শিল্পের আজ যায় যায় অবস্থা। এক সময়কার প্রধান অর্থকরী ফসল পাট রপ্তানির প্রাপ্ত অর্থের সিংহভাগ পশ্চিম পাকিস্তান নিয়ে যেতো বলে আমাদের কতোই না ক্ষোভ ছিলো!! অথচ পাকিস্তান থেকে আলাদা হবার পর এই পাট শিল্পের অবনতি ছাড়া অগ্রগতি কখনো হয় নি৷ এর কারণ হচ্ছে পাট মুক্তবাজারে তুলা, প্লাস্টিক, নাইলন ইত্যাদির সাথে প্রতিযোগিতা করে টিকতে পারেনি। পাটকে প্রতিযোগিতায় টিকিয়ে রাখার দায়িত্ব কার? কোনো দেশের নিজস্ব কাঁচা মালকে ব্যাবহার উপযোগী করে বাজারে টিকিয়ে রাখার দায়িত্ব অবশ্যই সে দেশের ইঞ্জিনিয়ারদের। দুঃখের সাথে বলতে হয় আমাদের অর্থনীতির চালিকা শক্তি বস্ত্র শিল্পের কাঁচামাল "তুলা" আমাদের দেশে উত্পাদন করতে এবং যে কাঁচামাল দেশে সহযেই উত্পাদিত হয় সেই "পাট"কে প্রতিযোগিতার বাজারে ব্যাবহার উপযোগী করে গড়ে তুলতে আমাদের ইন্জিনিয়াররা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে, অবশ্যই সেই ইন্জিনিয়াররা টেক্সটাইল ইন্জিনিয়ার ছাড়া আর কেউ নয়। অবাক করা বিষয় হলো দেশী কাঁচামাল বাদ দিয়ে অন্যে দেশের কাঁচামালকে প্রতিযোগিতায় টিকিয়ে রাখার জন্য আমাদের দেশের ইন্জিনিয়াররা রাত দিন কতো পরিশ্রম করে যাচ্ছে!
দেশের সোনালী আশ-পাট আজ বিলুপ্ত প্রায়। Texpedia

দেশের সর্ববৃহৎ সরকারি টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে খ্যাত "বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়" এ একটি জুট ল্যাব রয়েছে। বলাবাহুল্য দেশের পাট শিল্প যেরূপ ধুঁকে ধুঁকে চলছে সেই জুট ল্যাবটিও ব্রিটিশ আমলের জং ধরা ম্যাশিন দিয়ে কোনোরকমে টিকে আছে। ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন নতুন অনেক সাবজেক্ট খোলা হয়েছে, এমনকি টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ে কি করে কম্পিউটার সাইন্স খোলা যায় তা নিয়েও তোরজোর চলেছে বলে বাজারে প্রচলিত আছে (সত্যমিথ্যা জানা নাই) কিন্তু বাংলাদেশের প্রধান অর্থকরী ফসল পাটের উন্নয়নের জন্য কোনো সাবজেক্ট দূরে থাক ভালো ল্যাব করার কথাও থিংকট্যাংকদের মাথায় আসেনি৷ দেশের একটি অমূল্য কাঁচামাল হারিয়ে যাচ্ছে অথচ এ সংশ্লিষ্ট একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছ থেকে এতোটা উদাসীনতা দেখে অবাক হতে হয়!

অবশ্য বাংলাদেশের ইন্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ভালো করেই জানে এসকল বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে ইন্জিনিয়ারিং পাশ করে ইন্জিনিয়ারেরা ইন্জিনিয়ারিং বাদে বাকি সবকিছুই করবে। যেমন, ইন্জিনিয়ারদের কেউ ভালো করে ইংরেজি, এক্সেল, পাওয়ার পয়েন্ট ইত্যাদি শিখে বিদেশি প্রোডাক্ট কেনা বেঁচায় দক্ষ হয়ে অপ্রতিদ্বন্দ্বী সেলসম্যান হয়ে উঠবে অথবা কেউ এমবিএ করে ব্যাংকে চাকরি করবে অথবা কেউ বিসিএস দিবে অথবা কেউ বিদেশ যেয়ে উচ্চতর ডিগ্রি নিবে দেশে ফিরে আসার জন্য নয়, বরং দেশকে ভুলে একটা কোনরকম চাকরি ম্যানেজ করে পরিবার নিয়ে ঐ দেশে চিরকাল থাকার জন্য। অবশ্যই এগুলোর ব্যাতীক্রম রয়েছে, যাদের ব্যক্তিগত উদ্যোগ এবং দেশপ্রেমের জন্য দেশ টিকে আছে, তাদের জন্য স্যালুট, তবে এখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদান খুব সামান্যই!! সত্যিকার অর্থে দেশীয় কাঁচামালকে বিশ্ববাজারে পরিচিত করানোর জন্য আমাদের ইন্জিনিয়ারদের যেভাবে তৈরি করা প্রয়োজন তা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো চিন্তাই করছে না। বরং বিদেশি কোম্পানিগুলো এদেশকে তাদের পণ্যের বাজার হিসেবে গড়ে তোলার জন্য এদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকেই ব্যাবহার করছে যা আমরা বুঝার চেষ্টাও করছিনা।।

Post a Comment

Previous Post Next Post