সঠিক জার্নাল বাছাই । How to choose the right journal for your manuscript?

অনেক সময় দেখা যায়, তথ্য-উপাত্ত সমৃদ্ধ গবেষণা পেপার খুবই সাধারণ বা ভুল জার্নালে পাবলিশ করা হয়। এতে করে গবেষকদের কোন রকম ক্রেডিট হয় না বরং ক্ষতিই হয় বেশি। গবেষণা ও গবেষকদের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠে। এটা সাধারণত নতুন গবেষকদের ক্ষেত্রেই বেশি হয়ে থাকে। সচেতনতার অভাব কিংবা সঠিক জার্নাল বাছাই না করার কারনেই এমনটি হয়। একটি গবেষণা পেপার বা ম্যানুস্ক্রিপ্ট লেখার পর অবশ্যই তা যেনতেন জার্নালে পাবলিশ করা উচিৎ না। আসলে কেন আমরা গবেষণা পেপার পাবলিশ করি! সবার আগে আমাদের এটা জানা জরুরি। অনেক মেধা, শ্রম, অর্থের বিনিময়ে প্রাপ্ত গবেষণা ফলাফল কেন আমরা পাবলিশ করি! আমাদের পেপারের আল্টিমেট রিডার (Ultimate reader) কে বা কারা?

How to choose the right journal | Texpedi.com

কোন একটি সেক্টরে একটি বিশেষ বিষয়ের উপর গবেষণা, অবশ্যই উক্ত সেক্টরের উন্নয়নের জন্যই করা হয়। তাই গবেষণাটি তথা গবেষণা পেপারটি অথেনটিক হতে হয়। গবেষণার মান যাচাই করার জন্য ভালো জার্নালে (right journal) পাবলিশ করার ভূমিকা অপরিসীম। ভালো জার্নাল বলতে আন্তর্জাতিক ভাবে স্বীকৃত গবেষণা জার্নাল বোঝানো হয়, যেগুলোর আল্টিমেট রিডার (Ultimate reader) আমজনতা না হয়ে বরং সংশ্লিষ্ট গবেষকই (research community) হয়ে থাকে। এসব গবেষকরা আমাদের প্রকাশ করা কাজের উপর নানা রকম খুঁটিনাটি কমেন্ট করে থাকে। তাদের কমেন্টের উপর ভিত্তি করে ভবিষ্যৎ কাজের ডাইরেকশন পাওয়া যায় অথবা সরাসরি বাস্তবায়নযোগ্য (implementable) কিনা সেটাও বোঝা যায়। বলে রাখা ভালো যে, এসব জার্নালে গবেষণা পেপার পাবলিশ করার আগে অনেক ভালোভাবে যাচাই বাছাই করে তারপর পাবলিশ করা হয়। এসব জার্নালে পাবলিশ করতে পারলেই গবেষকদের উদ্দেশ্য হাসিল হয়। তারা তাদের নিজেদের কাজের মূল্যায়ন (evaluation) নিজেরাই করতে পারেন। তাই গবেষণা পেপার কোন রকম প্রিডেটরি জার্নালে প্রকাশ করা উচিৎ না, যাদের কোন প্রাসঙ্গিক পাঠক (relevant readers) নেই বরং এসব জার্নাল টাকা উপার্জনের উদ্দেশ্যেই খোলা হয়। বর্তমানে এমন প্রচুর জার্নাল পাওয়া যায়। তাই জার্নাল সিলেকশন করার সময় অবশ্যই মনযোগী হতে হবে কিংবা এক্সপার্টদের সহযোগিতা নিতে হবে।

কোন কোন জার্নাল ভালো, আর কোন গুলো প্রিডেটরি এই বিষয়ে ইতিমধ্যে আমাদের ওয়েবসাইটে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। আপনারা নিচের লিঙ্কগুলো থেকে দরকার হয় আবার দেখে নিতে পারেন। আজ আমরা মূলত আলোচনা করবো, আপনার কাজের জন্য উপযুক্ত জার্নাল বা সঠিক জার্নালটি কিভাবে সিলেক্ট করবেন, এই বিষয়ে। আপনি আপনার গবেষণা পেপারটি সার্বজনীন স্বীকৃত ভালো গবেষণা জার্নালে প্রকাশ করার ক্ষেত্রে অবশ্যই দেখে নিবেন, কোন কোন জার্নাল আপনার কাজের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ বা প্রাসঙ্গিক। যেকোনো জার্নালে পাঠালেই চলবে না। এতে করে সময় নষ্ট হবে এবং সর্বোপরি  প্রত্যাখিত (Rejected) হবার সম্ভাবনাই বেশি থেকে যায়। তাই পেপার ড্রাফট রেডি করার পর উপযুক্ত জার্নাল বেঁছে নেয়া খুব জরুরি। আপনি নিচে দেয়া তিনটি লিঙ্ক এর যেকোন একটি ব্যবহার করে খুব সহজেই বেঁছে নিতে পারেন আপনার কাঙ্ক্ষিত জার্নালটি। লিংকগুলোতে গিয়ে আপনার পেপারের টাইটেল (Title) এবং সারাংশ (Abstract) লিখে সার্চ করলে আপনাকে সংশ্লিষ্ট সব জার্নাল, জার্নালের র‍্যাঙ্কিং, ইমপ্যাক্ট ফ্যাক্টর, এক্সেপ্টেন্স রেইট, ফার্স্ট ডিসিশনের জন্য কত সময় লাগে, এবং পাবলিশ করার জন্য কত সময় লাগবে সহ আরো অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়ে যাবেন। এসব তথ্যের ভিত্তিতে আপনি খুব সহজেই সঠিক জার্নালটি বেঁছে নিতে পারবেন।

১. Elsevier Journal Finder (https://journalfinder.elsevier.com/)
২. Springer Journal Suggester (https://journalsuggester.springer.com/)
৩. Wiley Journal Finder (https://journalfinder.wiley.com/)

আপনারা দরকার হয় তিনটি সাইট দেখেই সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, কোন জার্নালে আপনার গবেষণা পেপারটি সাবমিট করবেন। আশা করছি, আজকের আলোচনাটি আপনাদের কাজে লাগবে। আপনারা অবশ্যই আপনাদের মতামত কমেন্ট করে জানাতে পারেন।  

  1. কোন কোন জার্নালে পাবলিকেশন করবো বা করা উচিৎ?
  2. প্রকাশিত আর্টিকেল থেকে কীভাবে ইমেজগ্রাফ বা টেবিল ব্যবহার করবেন?
  3. প্রিডেটরি পাবলিশিং | প্রতারণামূলক প্রকাশনা | Predatory Publishing
  4. কিভাবে গবেষণা পেপার লিখবো? | How to write a research paper?

Post a Comment

Previous Post Next Post